
কক্সবাজারের টেকনাফে পর্যটকবাহী চান্দের গাড়ি ও মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও আটজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের পুরানপাড়া এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ডিআই ওয়ান পরিদর্শক মিলনের পরিবারের সদস্যরা একটি পর্যটকবাহী চান্দের গাড়িতে টেকনাফ ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণ শেষে তারা মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথে বাহারছড়ার পুরানপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর চান্দের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পশ্চিম পাশে থাকা ঝাউবাগানের দিকে উল্টে পড়ে। এতে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে এবং আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ পরিদর্শক মিলনের বড় ভাই মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাহারছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েতুল্লাহ বলেন, দুটি গাড়ির সংঘর্ষের পর পর্যটকবাহী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝাউবাগানের দিকে উল্টে যায়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ আটজন আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান মিয়া জানান, টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার পথে পুরানপাড়া এলাকায় চান্দের গাড়িটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িটি সড়কের পাশে ঝাউবাগানে উল্টে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ পরিদর্শক মিলনের বড় ভাই মারা যান।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে বেপরোয়া ও অদক্ষভাবে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। পর্যটকবাহী যানবাহন, মোটরসাইকেল ও চান্দের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়রা মেরিন ড্রাইভে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের দক্ষতা নিয়মিত যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, মেরিন ড্রাইভ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সড়ক। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এ পথে টেকনাফ ও কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। তাই দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।